সরফরাজ খাঁ ছিলেন বাংলার নবাব। তাঁর প্রকৃত
নাম মির্জা আসাদুল্লাহ। পিতার নাম নবাব সুজাউদ্দিন খাঁ। মায়ের নাম জিন্নাত উন্নেসা
(নবাব মুর্শিদকুলি খানের কন্যা)। নানা কারণে জামাতা সুজাউদ্দিনের প্রতি মুর্শিদকুলি খান বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। ১৭২৭
সালে মুর্শিদকুলি খান অপুত্রক অবস্থায় মৃত্যুবরণের আগে, সুজাউদ্দিন খাঁ-এর পরিবর্তে
তিনি তাঁর নাতি সরফরাজ খানকে (সুজাউদ্দিন খাঁ-এর পুত্র) সিংহাসনের উত্তরাধিকার করে
যান। এই মনোনয়নকে সুজাউদ্দিন খাঁ মেনে নিতে পারেননি। ফলে তিনি কৌশলে দিল্লির সম্রাটের
কাছ থেকে বাংলার সুবেদারি পদের অনুমতি গ্রহণ করেন। এই সময় তাঁর বিশেষ পরামর্শদাতা ছিলেন আলিবর্দি খাঁ ও তাঁর ভাই হাজী আহম্মদ। উভয়ের পরামর্শে তিনি তাঁর অন্য পুত্র মহম্মদ তকি খাঁকে
উড়িষার শাসন ভার দিয়ে সসৈন্যে মুর্শিদাবাদের পথে রওনা দেন। পিতার এই আচরণে সরফরাজ বিস্মিত
হন। গৃহবিবাদের আশঙ্কার কারণে মা ও মাতামহীর পরামর্শে তিনি পিতার কাছে সিংহাসন হস্তান্তর
করেন।
Showing posts with label nawabs-kings. Show all posts
Showing posts with label nawabs-kings. Show all posts
নবাব সুজাউদ্দিন মুহাম্মদ খাঁ
সুজাউদ্দিন খাঁ ছিলেন বাংলার নবাব। তাঁর পিতার
নাম ছিল নবাব জান মু্হাম্মদ খান। ১৬৭০ সালে বুরহানপুরে (বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের অন্তর্গত)
জন্মগ্রহণ করেন। বুরহানপুরে তাঁর প্রথম জীবনে সরকারী কাজে হাতে খড়ি হয়। এখানে মুর্শিদকুলি খান-এর সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। অল্পদিনেই তিনি মুর্শিদকুলি খান-এর বিশেষ স্নেহভাজন হয়ে
পড়েন। সেই সূত্রে মুর্শিদকুলি খান তাঁর কন্যা জিন্নাত উন্নেসা বা আজমত উন্নেসার সঙ্গে
সুজাউদ্দিনের বিয়ে দেন।
শেয়ার করুন
নবাব আলিবর্দি খাঁ
আলিবর্দি খাঁ বাংলা, বিহার, ওড়িষার নবাব ছিলেন। প্রকৃত নাম মির্জা মুহাম্মদ আলি। তিনি ১৭৪০ সাল থেকে ১৭৫৬ সাল পর্যন্ত নবাব ছিলেন। আলিবর্দি খাঁর বাবা ছিলেন আরব দেশীয় এবং মা তুর্কি। তার পিতার নাম ছিল মির্জা মুহাম্মদ। আরব বংশোদ্ভূত মির্জা মুহাম্মদ আজম শাহের (আওরঙ্গজেবের দ্বিতীয় পুত্র) দরবারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। মির্জা মুহাম্মদের দুই পুত্র - মির্জা আহম্মদ ও মির্জা মুহাম্মদ আলি। মির্জা মুহাম্মদ আলির পূর্ণ বয়স্ক হবার সঙ্গে সঙ্গে আজম শাহ তাকে পিলখানার পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। ১৭০৭ এর যুদ্ধে আজম শাহের মৃত্যুর পর চাকরি চলে যাওয়ার মির্জা মুহাম্মদ আলির পরিবার সমস্যার সম্মুখীন হয়। তখন, বাকি জীবনের জন্য তিনি সপরিবারে ১৭২০ সালে বাংলায় চলে আসেন।
শেয়ার করুন
নবাব মুর্শিদকুলি খান
বাংলার প্রথম নবাব ছিলেন মুর্শিদকুলি খান। আনুমানিক ১৬৬৫ সালে দাক্ষিণাত্যের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। অভাবের তাড়নায় বাল্যকালে তার পিতা তাঁকে ক্রীতদাস হিসাবে বিক্রি করে দেন হাজি সফি নামে এক পারসিক ব্যবসায়ীর কাছে। হাজি সফি বালককে নিয়ে যান পারস্যের ইস্পাহানে। সেখানে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে নতুন নাম দেন মহম্মদ হাদি। নিজের ছেলেদের সঙ্গে মহম্মদ হাদিকেও লেখাপড়া শেখান হাজি সফি। হাজি সফির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা মহম্মদ হাদিকে ক্রীতদাস জীবন থেকে মুক্তি দেন। অত:পর যুবক মহম্মদ হাদি ভারতে দাক্ষিণাত্যের ফিরে আসেন। সেখানে সুবে বেরারের দেওয়ান হাজি আব্দুলার কাছে রাজস্ব বিভাগের কাজে যোগদান করেন এবং কাজে বিশেষ পারদর্শিতা দেখান। মহম্মদ হাদির এই পারদর্শিতার কথা মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব জানতে পেরে তিনি তাঁকে হারদারবাদের দেওয়ান হিসাবে নিযুক্ত করেন এবং মনসবদারি পদ প্রদান করেন।
শেয়ার করুন
বাংলা ও মুর্শিদাবাদের নবাবগণ
শেয়ার করুন







